রাফি খুলনা অঞ্চলে বেড়াতে গিয়ে লক্ষ করলো চাষিরা ধান চাষ করছে। সে অবাক হলো, কারণ সে জানত এ অঞ্চল ধান চাষের অনুপযোগী। তার বাবা তাকে বললেন, কৃষিজ পণ্যের ওপর কৃষি জলবায়ুর অনেক প্রভাব রয়েছে। তিনি আরো বললেন, প্রতিকূল পরিবেশেও বিভিন্ন ফসল জন্মানোর প্রক্রিয়া উদ্ভাবিত হয়েছে।
উদ্দীপকের রাফির বাবার প্রথম উক্তিটি হলো, কৃষিজ পণ্যের ওপর কৃষি জলবায়ুর অনেক প্রভাব রয়েছে। কৃষি জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, শিশির, কুয়াশা ইত্যাদি এসব উপাদানের উপর কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন নির্ভর করে।
বেঁচে থাকার জন্য সকল উদ্ভিদে একটি সর্বনিম্ন, সর্বোত্তম ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রয়েছে। ঠাণ্ডা ঋতুর ফসল অপেক্ষাকৃত কম তাপ পছন্দ করে। যেমন- গম, আলু ইত্যাদি। উষ্ণ ঋতুর ফসল অপেক্ষাকৃত উচ্চ তাপমাত্রায় জন্মে। যেমন-পাট, রাবার ইত্যাদি।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ফসল উৎপাদনে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। উৎপাদন ঋতুতে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বাংলাদেশে উফশী ধানের ফলন কমে যায় এবং গমে রোগের আক্রমণ বেড়ে যায়। উচ্চ তাপমাত্রা ফলের বৃদ্ধি ও পরিপক্কতা ত্বরান্বিত করে। যেকোনো শাকসবজি ও ফলের জন্য তাপমাত্রা ১০° সে. এর নিচে গেলে গাছে ঠান্ডাজনিত ক্ষত এবং ফলন কম হয়। গ্রীষ্মকালে বোনা আউশ ও পাটের বীজ গজানো বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। বৃষ্টিপাত বেশি হলে অনেক শাকসবজির গোড়া পচে যায়, ফুল- ফল ধারণ ব্যাহত ও ফলন কম হয়। খরার পর প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে কলা, টমেটো, আখ প্রভৃতিতে ফাটল দেখা যায়। তুষারপাতে খোলা মাঠের ফসল নষ্ট হয়। আবার, কোনো কোনো ফসলের কুঁড়ি তুষারপাত না হলে বের হয় না, যেমন- আপেল। কুয়াশা ফসল উৎপাদনে এবং ফসলের রোগ ও পোকার আক্রমণে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। কুয়াশা বেশি থাকলে আলুর মড়ক ও আমের অ্যানথ্রাকনোজ রোগ বেশি হয়। অর্থাৎ, কৃষি জলবায়ুর উপাদান বাংলাদেশে কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?